কারাগারেও আনন্দেই আছেন জিয়াউল আহসান, হাজতখানায় কেক কাটেন, টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত এনে সবাইকে নিয়ে খান – অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটরের

Share

“উনি হাজতখানায় কেক কাটেন। টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত এনে সবাইকে নিয়ে খান।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারাধীন সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে নিয়ে এভাবেই চাঞ্চল্যকর সব নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, হাজতখানায় থাকা অবস্থায় জিয়াউল কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা মানছেন না এবং তাঁর মাধ্যমে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো ‘স্যাবোটাজ’ বা নাশকতার ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। আর ঠিক এ কারণেই তাঁকে হাতকড়া পরানো এবং ট্রাইব্যুনালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে চিফ প্রসিকিউটরের এসব শঙ্কা ও অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আসামির বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার।

কেক কাটার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “হাজতখানা কি জন্মদিন পালনের জায়গা? কেক পাবে কোথায়, কার সঙ্গে কাটে?”

এ ছাড়া সবাইকে নিয়ে ভাত খাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “সে কি ওখানে ডেকচিতে করে খাবার নিয়ে যায়? এক টিফিন ক্যারিয়ারে করে তাকে ভাত-তরকারি দেওয়া হয়। সেটা খায়। এখন কেউ যদি পাশে বসে থাকে, তাকে যদি দেয়, সেটা অন্য কথা।”

পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে কেবল শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার জন্যই এভাবে হাতকড়া পরিয়ে আনা হচ্ছে।

এদিকে এদিন মামলার সাক্ষী জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন স্বয়ং জিয়াউল আহসান। সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষক থাকাকালীন কোমর, পিঠ ও ঘাড়ে আঘাত পাওয়ার কারণে তাঁর হেলমেট পরতে সমস্যা হয় বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।

গাড়ি থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়ার সংক্ষিপ্ত দূরত্বের কথা তুলে ধরে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুললে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে বলা হয়, “স্নাইপার শুট করতে পারে।”

সূত্র: দ্যা ডেল্টা লেন্স