আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, সেই প্রক্রিয়ায় ঢাকা সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে তিনি জানান, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেয়ার সুযোগ নেই।
তবে ২০২৩-এ সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার ৩ বছরের মাথায় এমন সিদ্ধান্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নতুন ভাবনার খোরাক যোগাবে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজ রহমান।
তিনি বলেন, আপনি কি তাহলে সদস্য হতে চেয়েছিলেন, এখন আর হতে চান না? বিষয়টা তো সেরকম না। কিন্তু অনেকে তো সিগন্যালটাকে ওরকম মনে করতে পারে। আপনি কি একা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন, যে আপনি বিমসটেককে রিপ্রেজেন্ট করবেন না? এগুলো প্রশ্ন আসতে পারে। এই প্রশ্নগুলো সাধারণভাবে আসে না, যখন সব ঠিকঠাক থাকে। কিন্তু প্রশ্নগুলো তখন আসে, যখন এগুলোর মধ্যে আপনার টানাপোড়েন, তিক্ততা—এই ধরনের এলিমেন্ট ঢুকে পড়ে।
বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তে লাভ কার? খুশি কে? এমন প্রশ্নের জবাবেও সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন, সবগুলো দেশের মধ্যে চীনের সক্ষমতাই সব দিক থেকে বেশি। সুতরাং যত বেশি সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়, ওইটার বেনিফিট ইভেন্টুয়ালি চীনের পকেটে যায়। বাংলাদেশও যদি সদস্য হয়, তাহলে চীন যেরকম বেনিফিট পাচ্ছে, আমরা সেরকম বেনিফিট পাব না। আমি মনে করি, আপনি যদি বিচার-বিবেচনা করে দেখেন, ভারতের বেনিফিট কিন্তু এখানে কম হয়নি। এখন সেজন্য ভারত ইচ্ছে করে বাংলাদেশকে ওইভাবে ইনভাইট করেছে কি না, সেটাও প্রশ্ন আসতে পারে।
বন্ধু রাষ্ট্র যেন বিরাগভাজন না হয়, সেক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কেও কথা উল্লেখ করে মাহফুজ রহমান বলেন, আমরা যদি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে এই সম্পৃক্ততা একটুখানি ঝুঁকির মধ্যে পড়লে পড়তে পারে। আপনাকে এখন এটা বিবেচনা করে অন্যান্য অনেক কিছু দিয়ে এটা কাভার করার চেষ্টা করতে হবে।
সূত্র: স্টার নিউজ