বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকটা নিরুপায় হয়েই চীন সফরে গিয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া পারিপার্শ্বিক চাপ সামলানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবিকভাবে, তাঁর সাম্প্রতিক কোনো মিশনেই আশাব্যঞ্জক কোনো সাফল্য দেখা যাচ্ছে না।
আমেরিকা প্রতিটি মিশন সফল করতে পাকিস্তানকে দীর্ঘকাল ‘প্রক্সি-রাষ্ট্র’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা কেবল সহায়ক বা ডামাডোল বাজানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাদের দিয়ে মূল লড়াইয়ে জয়লাভ করা সম্ভব নয়।
হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। অথচ ট্রাম্প হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চীনে গিয়েছেন এই প্রণালি সচল রাখা নিয়ে আলোচনা করতে; যা মূলত এক ধরনের মৌন অনুমতি নেওয়ারই নামান্তর। কারণ ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে চীনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এবং ইরান অনেকাংশেই চীনের ওপর নির্ভরশীল। আমেরিকার বিদ্যমান কাঠামোতে সেই আগের ‘ইউনিপোলারিটি’ বা একক আধিপত্য এখন আর নেই। সম্ভবত খুব শীঘ্রই এই একমেরু বিশ্বব্যবস্থার পতন ঘটতে যাচ্ছে। মূলত ‘মাল্টিপোলারিটি’ বা বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার উত্থানই ট্রাম্পকে আজ চীনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেছে। মানুষ তখনই অন্যের সাহায্য নেয়, যখন তার নিজের সক্ষমতায় ঘাটতি পড়ে।
এমনকি তাইওয়ান ইস্যুতে চীন এখন আমেরিকাকে সরাসরি ‘সতর্ক’ (Warn) করছে, অনুরোধ বা আহ্বান না। এটি বিশ্বরাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্যের পরিবর্তনের বড় প্রমাণ।
গত মেয়াদে ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চীনের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া। সাময়িকভাবে সেই চেষ্টা কিছুটা সফল হলেও চীন অত্যন্ত দ্রুত সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি স্পষ্ট যে, আমেরিকার একক আধিপত্যের সাম্রাজ্য এখন ধসের মুখে। পৃথিবী এখন মাল্টিপোলারিটির দিকে ঝুঁকছে।
লিখেছেন- রেজাউল সরকার রনি
(মতামত লেখকের নিজস্ব)