মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জিতলেও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্বস্তি মেলেনি। বিশ্বকাপের আগে শেষ এই পরীক্ষায় দলের পুরোনো কিছু সমস্যার সমাধান মেলেনি, উল্টো নতুন উদ্বেগ যোগ হয়েছে নির্ভরযোগ্য ওয়েসলির চোটে।
৫ জুন ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূরণ করেছেন আনচেলত্তি। এটি তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথম কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তাঁর ১২তম ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি।
ম্যাচে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল রক্ষণভাগ। এটি ছিল টানা পঞ্চম ম্যাচ যেখানে ব্রাজিল গোল হজম করল। ডিফেন্ডারদের ওয়ান অন ওয়ান লড়াইয়ে বারবার উন্মুক্ত হয়ে পড়া চোখে পড়েছে। প্রথমার্ধে দলের তারকা খেলোয়াড়েরা ম্যাচের রূপ বদলাতে পারেননি; লিড নিতে নির্ভর করতে হয়েছে বদলি নামা এনদ্রিকের ওপর। বল দখলে থাকার সময় আক্রমণভাগে ফাঁকফোকর এবং গোলের সুযোগ নষ্ট করার পুরোনো সমস্যাও রয়ে গেছে।

আনচেলত্তি মূলত প্রীতি ম্যাচগুলো ব্যবহার করেছেন দলের প্রধান ১৬ খেলোয়াড় চূড়ান্ত করতে। তাঁর অধীনে সবচেয়ে বেশি শুরুর একাদশে ছিলেন কাসেমিরো (১২ বার), ব্রুনো গিমারেস ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (১১ বার করে)। মিডফিল্ডে কাসেমিরো-ব্রুনো গিমারেস জুটি এবং রক্ষণে মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের থাকা প্রায় নিশ্চিত। রাফিনিয়ার একাদশে থাকাও অনেকটা নিশ্চিত। স্ট্রাইকারের পজিশনে কোনো নির্দিষ্ট মুখের ওপর একক নির্ভরতার বদলে পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তনের পথেই হাঁটবেন আনচেলত্তি।
নেইমার ফিট হয়ে ফিরলে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের হিসাব বদলে যেতে পারে। বিশ্বকাপের ইতিহাসও বলছে, অনেক সময় একটিমাত্র পরিবর্তনই পুরো দলের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। ১৯৯৪ সালে মাজিনহো এবং ২০০২ সালে ক্লেবারসনের অন্তর্ভুক্তি সেই উদাহরণ।
তবে বর্তমান বাস্তবতা কঠিন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা আটটি ম্যাচ জিতেই বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে হবে। ব্রাজিলের শক্তিশালী স্কোয়াড থাকলেও তারা এখনো পুরোপুরি দল হিসেবে গড়ে ওঠেনি। আনচেলত্তি আদর্শ একাদশের চেয়েও পরিস্থিতিভেদে একাধিক কার্যকর সমন্বয় খুঁজছেন বলে মনে হচ্ছে। অর্থাৎ ব্রাজিল এখনো নিজেদের সেরা রূপ খুঁজে বেড়াচ্ছে — আর সেই খোঁজ চলতে পারে বিশ্বকাপের মাঝপথ পর্যন্তও।