তাঁর জীবন সিনেমার মতো—এ কথা অনেক তারকার ক্ষেত্রেই বলা হয়। তবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে কথাটি আক্ষরিক অর্থেই সত্য। বস্তি থেকে উঠে বিশ্বজয়ী হওয়ার এই রূপকথার গল্পকে পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক আসিফ কাপাডিয়া। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর তথ্যচিত্র ‘ডিয়েগো ম্যারাডোনা’ ক্রীড়াভিত্তিক সেরা তথ্যচিত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
তথ্যচিত্রটি মূলত ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সালের সময়কালকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যখন ম্যারাডোনা ইতালির ক্লাব এসএসসি নাপোলিতে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছান। নেপলস শহরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন শুধু ফুটবলার নন, দক্ষিণ ইতালির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার বিরুদ্ধে এক প্রতীক।

তথ্যচিত্রটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর দুর্লভ ফুটেজ। কাপাডিয়া ও তাঁর দল ৫০০ ঘণ্টার বেশি অপ্রকাশিত ভিডিও সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছিল ড্রেসিংরুমের মুহূর্ত, পারিবারিক ভিডিও ও নেপলসে কাটানো জীবনের অজানা অধ্যায়। প্রচলিত ‘টকিং হেড’ স্টাইল এড়িয়ে আর্কাইভ ফুটেজ ও অডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে গল্প বলেছেন পরিচালক, ফলে দর্শক যেন সরাসরি ফিরে যান আশির দশকের নেপলসে।

তথ্যচিত্রটির কেন্দ্রীয় ধারণা হলো দুই ম্যারাডোনার দ্বন্দ্ব। একজন ডিয়েগো—আর্জেন্টিনার দরিদ্র বস্তির লাজুক ও স্বপ্নবাজ ছেলে। আরেকজন ম্যারাডোনা—বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবল তারকা, যাকে ঘিরে রাজনীতি, অপরাধ চক্র ও স্বার্থান্বেষী মানুষের ভিড়। নাপোলিতে দুটি সিরি আ শিরোপা ও উয়েফা কাপ এনে দেওয়ার পাশাপাশি ইতালির কুখ্যাত অপরাধ চক্র ক্যামোরার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ফুটবল ইতিহাসের সেরা গোলটির প্রসঙ্গও তথ্যচিত্রে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। সাফল্যের চূড়ায় ওঠার পর মাদকাসক্তি, পারিবারিক সংকট ও মিডিয়ার অবিরাম নজরদারি তাঁকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে। ১৯৯১ সালে কোকেইন ব্যবহারের অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে নাপোলিতে তাঁর যুগের সমাপ্তি ঘটে।

কাপাডিয়া ম্যারাডোনাকে বিচার না করে এমন এক মানুষকে তুলে ধরেছেন, যিনি নিজের প্রতিভার ভারই শেষ পর্যন্ত বহন করতে পারেননি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ারের পর ২০১৯ সালের ১৪ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ১৩০ মিনিটের তথ্যচিত্রটি বক্স অফিসে ২.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে এবং সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়।
- আইএমডিবি, দ্য গার্ডিয়ান ও গোলডটকম অবলম্বনে