১৯৭৮ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনার প্রথম শিরোপার পেছনে ম্যাচ পাতানোর যে অভিযোগ আজও জীবন্ত

Share

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চিরন্তন তর্কে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসে — যে বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তিই ছিল বিতর্কিত, সেটি নিয়ে গর্ব করার কী আছে? ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়কে ঘিরে ম্যাচ পাতানো ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ফুটবল বিশ্বে আজও আলোচনার বিষয়।

১৯৭৬ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জেনারেল বিদেলার নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৭৮ বিশ্বকাপকে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলে সমালোচকদের অভিযোগ। সেই আসরের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত ছিল পেরুর বিপক্ষে সেমিফাইনাল পর্যায়ের ম্যাচটি। ফাইনালে উঠতে আর্জেন্টিনার দরকার ছিল কমপক্ষে ৪ গোলের জয়। অদ্ভুতভাবে সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৬-০ গোলে জয় পায়। পেরুর গোলরক্ষকের অদক্ষ পারফরম্যান্স ও রক্ষণভাগের নড়বড়ে অবস্থা আজও ফুটবল বোদ্ধাদের কাছে সন্দেহের বড় কারণ।

এছাড়া ব্রাজিল শুরু থেকেই অভিযোগ করেছিল, টুর্নামেন্টের সূচি আর্জেন্টিনার সুবিধামতো সাজানো হয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপের ভয়ে সেই বিশ্বকাপে অংশ নেননি, যা আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল বলে মনে করা হয়। শেষপর্যন্ত ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

ক্ষমতা, রাজনীতি ও ক্রীড়ার এই জটিল সমীকরণের কারণে ১৯৭৮ বিশ্বকাপকে ব্রাজিল সমর্থকরা ‘কলঙ্কিত ট্রফি’ হিসেবেই দেখেন। তাই দুই দলের সমর্থকদের তর্কে যখন ‘বাপ-দাদার আমলের ইতিহাস’ টেনে আনা হয়, তখন এই বিতর্কিত অধ্যায়টিই সামনে চলে আসে।