স্বাগতিক কানাডা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল রেকর্ড গড়েই। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিল কানাডা। তবে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকল আরেকটি কারণেও— প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ট্যাকলে পা ভেঙে মাঠ ছাড়তে হলো কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে কাইল লারিনের গোলে এগিয়ে যায় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার তেজন বুকানানকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ, কাতার নেমে আসে ১০ জনে। সেই সুযোগে প্রথমার্ধেই আরও দুই গোল করেন জোনাথন ডেভিড, যার একটি যোগ করা সময়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা। বল কাড়তে গিয়ে পেছন থেকে কোনেকে এমন মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো যে তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে যায়। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্ট্রেচারে করে বের করে নেওয়া হয় কোনেকে, আর সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন কানাডার কোচ জেসে মার্চ। ভিএআরের সিদ্ধান্তে মাদিবোও লাল কার্ড দেখেন, কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।
দুজন কম নিয়ে খেলা কাতারের ওপর এরপর আরও চাপ বাড়ায় কানাডা। ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন বদলি নামা নাথান সালিবা, যিনি গোলের পর কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেন। ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোল এবং যোগ করা সময়ে ডেভিডের হ্যাটট্রিকসূচক গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-০।
স্বাগতিক দেশের হয়ে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা ষষ্ঠ ফুটবলার ডেভিড, আর এমন কীর্তি দেখা গেল ৬০ বছর পর— সবশেষ ১৯৬৬ সালে যা করেছিলেন ইংলিশ কিংবদন্তি জিওফ হার্স্ট।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের তালিকায় নাম লেখাল কানাডা, যেখানে আগে ছিল ১৯৩৪ সালে ইতালি, ১৯৫০ সালে ব্রাজিল ও ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার নজির। একই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল এবং দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম উঠল কাতারের। ‘বি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠল কানাডা, সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে সুইজারল্যান্ড।