‘বাংলার লুথার কিং; তৈল-মর্দন তারেক রহমানের জন্য অশনি সংকেত’

Share

এক সময় তারেক রহমান আমার স্ট্যাটাস পড়তেন বলে জানিয়েছিলেন, তার এক ঘনিষ্টজন।
যেদিন তারেক রহমান সাহেবের সাথে কথা বলেছিলাম, সেদিনও একই ধারণা পেয়েছিলাম যে, উনি মাঝে মাঝে হলেও আমার লেখা পড়েন।
আজকের লেখা পড়বেন, এমন দুরাশা আমি করি না।
তবে উনার শতেক চোখ। উনার কোনো না কোনো ঘনিষ্ট সহচর, এই লেখাটি পড়বেন। এটা আমি নিশ্চিত।
তারেক সাহেব, আজ একটি দৈনিক আপনাকে বাংলার লুথার কিং বলেছে।
এটি জাতির জন্য তো বটেই, আপনার জন্যও একটি অশনি সংকেত।
বাঙালির তৈল মর্দনের ক্ষমতা- সারা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নামক একজন লেখক এই তেলবাজি নিয়ে পুরো একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। সেই প্রবন্ধের একটি লাইন- ”তৈল সর্বশক্তিমান; যাহা বলের অসাধ্য, যাহা বিদ্যার অসাধ্য , যাহা ধনের অসাধ্য, যাহা কৌশলের অসাধ্য,তাহা কেবল একমাত্র তৈল দ্ধারা সিদ্ধ হইতে পারে।”
এই তৈল মর্দনের একটা কমন ফ্যাক্টর আছে। গাড়িতে তেল দিলে, গাড়ির উপকার হয়। সে চালিকাশক্তি লাভ করে। কিন্তু বাঙালি যাকে তেল দেয়, এতে তেলগ্রহীতার কোনো উপকার হয় বলে এখন পর্যন্ত দেখা যায় নাই। বরং যিনি তেল দেন, উপকার একমাত্র তারই হয়। আর যাকে তেল দেয়া হয়, তার হয় সর্বনাশ।
তেলদাতার উপকার হোক- এটা আমি মনেপ্রাণে চাই। কিন্তু আপনার যে সর্বনাশ হচ্ছে, এটাই আমার খানিকটা মাথা ব্যথার কারণ।
এজন্য এই স্ট্যাটাসটি দেয়া।
আপনার যেসব লোকজন মিডিয়াকে এসব করতে বলছে, তাদেরকে নিবৃত্ত করুন। এইসব লেখায় আপনার জনপ্রিয়তা কমবে, বাড়বে না।
তবে যারা এসব লিখছেন, লেখার মদদ দিচ্ছেন, তারা ফুলে ফেঁপে লাল হয়ে যাচ্ছেন। (অলরেডি অনেকে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন।)
শেখ মুজিবকে নিয়ে হাজার খানেক বই লেখা হয়েছিলো। একটি বইও কেউ পড়ে নাই। কিন্তু লেখক ও প্রকাশকরা লালে লাল হয়ে গিয়েছিলেন। এবং শেখ মুজিব হয়েছিলেন হাসিঠাট্টার পাত্র।
আপনি দেশের মাটিতে পা দেয়ার আগেই, আপনাকে নিয়ে একটি বই প্রকাশ পেয়েছে। একজন নয়, দুজন নয়, প্রায় ডজনখানেক লেখক মিলে একটি বই নামিয়েছেন।
এই প্রবণতা থামানো দরকার।
আপনি ওদেরকে একটা কড়া ধমক দেন। নইলে এই রকম বই এবং পত্রিকার রিপোর্ট এত বেশি ছাপা হবে যে, সুন্দরবনের প্রত্যেকটি গাছ কেটে কাগজ বানাতে হবে।
ব্যাপারটি এখনই এড্রেস করা দরকার।
ধন্যবাদ।

লেখক: আশীফ এন্তাজ রবি