আজ বাংলাদেশ হারাল শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নয়, হারাল এক অদম্য সাহস ও সংগ্রামের প্রতীককে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্থান আমাদের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল—যার ওজন ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তিনি ছিলেন গণমানুষের নেত্রী। রাজপথ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা—প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল তাঁর নেতৃত্বে। কঠিন সময়, সংকট ও দমন–পীড়নের মধ্যেও তিনি দৃঢ়চিত্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কখনো মাথা নত করেননি।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্যাতন, কারাবরণ, অপমান ও অব্যাহত হয়রানির শিকার হয়েও তিনি কখনো দেশ ছাড়েননি। নির্বাসনের পথ তাঁর সামনে খোলা ছিল, কিন্তু তিনি সে পথ বেছে নেননি। অসুস্থ শরীর নিয়েও, সীমাহীন অবিচারের মাঝেও তিনি এই দেশের মাটিতেই থেকেছেন—নিজের মানুষের সঙ্গেই থেকেছেন। এই সাহসই তাঁকে ইতিহাসে আলাদা করে রেখেছে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি চিরকৃতজ্ঞ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি, আমার প্রয়াত পিতা সাদেক হোসেন খোকা-এর রাজনৈতিক জীবনে তাঁর অবদান ও নেতৃত্বের জন্য। তাঁর আস্থা, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমার পিতাকে জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। এই সম্মান ও বিশ্বাসের স্মৃতি আমাদের পরিবারের কাছে আজীবন অমূল্য হয়ে থাকবে।
ইতিহাস বেগম খালেদা জিয়াকে মনে রাখবে এক আপসহীন নেত্রী হিসেবে—যিনি কখনো মাথা নত করেননি, দেশ ছাড়েননি, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। আজ তাঁর দেহ বিশ্রামে গেলেও, তাঁর আত্মা গণতন্ত্র ও মর্যাদার সংগ্রামে চিরজাগরুক থাকবে।
- লেখা: সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও ইশরাক হোসেনের ভাই ইশফাক হোসেন