যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে এই দাবি করার পাশাপাশি বিষয়টি সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা নথিও অবমুক্ত করেছেন বলে জানান তিনি।
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থায় থাকা চমকে দেওয়ার মতো দুর্বলতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য তিনি প্রকাশ করছেন, যা প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা হ্যাকিং, অপব্যবহার ও বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য আগে কখনো কল্পনা না করা মাত্রায় বিপজ্জনকভাবে উন্মুক্ত। তাঁর অভিযোগ, এই তথ্য বহু বছর ধরে জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।
চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের বিপুল তথ্য সংগ্রহ করছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, এসবের মধ্যে ছিল ভোটারদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলীয় পছন্দ এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য, যা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের এসব তথ্য সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সরকারি নথি হিসেবেই পাওয়া যায়। ট্রাম্পের দাবি, প্রকাশিত নথিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা সংক্রান্ত তথ্য তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছিল।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ ও আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেছেন, অবমুক্ত করা এই গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে পারেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ও জনগণ—উভয়ের কাছ থেকেই এই তথ্য গোপন রেখেছিল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিজের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ২০২১ সালের জানুয়ারির মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, চীন শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেনি, যদিও সংখ্যালঘু মতামতে বলা হয়েছিল, চীন ট্রাম্পবিরোধী জনমত গড়ে তোলার কিছু চেষ্টা চালিয়েছিল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বেইজিং নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশকারী মার্কিন সাংবাদিকদের শনাক্ত করে তাঁদের আরও বেশি নেতিবাচক লেখার জন্য অর্থ প্রদানের চেষ্টা করেছিল। তাঁর ভাষায়, চীনা সরকার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে আরও লেখার জন্য উৎসাহিত করতে চেয়েছিল, তারা কী লিখছে তা নিয়ে চীনের মাথাব্যথা ছিল না। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ উপস্থাপন করেননি তিনি। ট্রাম্পের দাবি, চীনা সরকার চেয়েছিল তিনি পরবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত ভোটগ্রহণ যন্ত্র হ্যাক করা সম্ভব বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরেই জানে এই যন্ত্রগুলো আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাই ঝুঁকিপূর্ণ। একটি গোয়েন্দা মূল্যায়ন উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলো—অন্তত রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রবহির্ভূত গোষ্ঠী—দেশটির নির্বাচনী সিস্টেমে অনুপ্রবেশের সক্ষমতা রাখে।
সবশেষে ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ভোটার তালিকায় নাগরিক নয় এমন ব্যক্তি ও মৃত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে—যা এর আগেও একাধিকবার তুলে ধরা এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে খণ্ডন করা একটি পুরোনো অভিযোগ। তাঁর ভাষায়, প্রকাশিত এই তথ্য এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরছে, যা এতটাই ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ যে এর পক্ষে কোনো সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়।